জিনিয়াসদের ব্যায়াম

বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের সাথে ব্যায়াম যায় না এমন একটি মিসকনসেপশন আছে। এই মিসকনসেপশনের মূলে মানুষের চিন্তা বিষয়ক একটি ভুল ধারণা জড়িত। মানুষ কেবল তার ব্রেইন না, যদিও ব্রেইন দিয়ে সে চিন্তা করে। মানুষ হলো তার পুরা শরীর এবং তার চারপাশ যা তার উপর প্রভাব ফেলতে পারে তা মিলে একটা সিস্টেম। এই সিস্টেমই তার চিন্তা তৈরি করে। প্লেটো, হেইডেগার, রুশোর মতো দার্শনিকেরা এক্সারসাইজকে পজেটিভ হিসেবেই দেখেছেন।

ব্যায়াম মানুষের জন্য দরকারি কারণ মানুষ বিবর্তনগত ভাবে বসে থাকার জন্য তৈরি হয় নি। ফলে বসে থাকা তার কর্মক্ষমতাকে ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়।

মানুষের ভিতরে যে হরমোনাল সিস্টেম আছে (এন্ডোক্রিন সিস্টেম) এতে হরমোনের একটা ভারসাম্য দরকার হয় তার বেড়ে উঠা, আচার আচরণ ইত্যাদির জন্য। যেমন, কোন পুরুষ লোকের টেস্টোস্টেরন কম হলে তার নানা সমস্যা হতে পারে। টেস্টোস্টেরন কেবল সেক্স হরমোন না, এটা একটা মেইন হরমোন। স্যাডনেস, ডিপ্রেশন, স্মৃতি সমস্যায় হতে পারে এর কারণে। বিজ্ঞানি রবার্ট সাপোলস্কি এ নিয়ে ইন্টারেস্টিং আলোচনা করেছেন, আপনারা চাইলে তা দেখতে পারেন। ভিডিও আছে এখানে আর নিচে বইয়ের ছবি।

এই টি-লেভেল বাড়ানোর জন্য সবচাইতে সেরা উপায় হলো এক্সারসাইজ, বিশেষত ওয়েট লিফটিং। কারণ টি ছাড়া মাসল ম্যাস হয় না, ফলে মাসলে প্রেশার পড়লে টি বুস্ট হয়।

পৃথিবীতে যেসব জিনিয়াসেরা ছিলেন তারা কেউই ব্রেইনকে আলাদা ভাবে ভাবেন, বরং নিজেদের একটা সিস্টেম হিসেবে ভেবেছেন।

ইংলিশ পলিম্যাথ এল্যান টিউরিং ছিলেন ভালো মানের দৌড়বিদ। তিনি দৌড়ের জন্য মারাত্মক পরিশ্রম করতেন। ১৯৪৮ সালের অলিম্পিক দৌড়ে ইংল্যান্ডের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে তার নামও উঠেছিল। তিনি প্রায়ই ৫০ কিমি. দৌড়াতেন।

ছবিঃ টিউরিং দৌড়াচ্ছেন

টিউরিং যখন কাজ শুরু করলেন, তখনও দৌড়াতেন। তার কথায়, আমার কাজটি এতো স্ট্রেসফুল যে এই স্ট্রেস থেকে মুক্তির একটাই পথ আমার কাছে, দ্রুত দৌড়ানো, এই একমাত্র পথেই আমি সামান্য শান্তি পাই।

গ্রীক নারী পলিম্যাথ হাইপেশিয়া নিজের জন্য একটি ব্যায়াম প্রোগ্রাম তৈরি করেছিলেন। এতে দৌড়ানো, সাতার, ঘোড়ায় চড়া ইত্যাদি ছিল। তিনি চেয়েছিলেন তার মাইন্ডের মতো বডিকেও ট্রেইন করতে। আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরির শেষ প্রধান থিওনের তত্ত্বাবধানে তিনি এই ব্যায়াম প্রোগ্রাম তৈরি করেন।

জার্মান বিজ্ঞানি, যাকে পৃথিবীর অন্যতম সেরা জিনিয়াস হিসেবে ধরা হয়, সেই আইনস্টাইন নিয়মিত বাইকিং করতেন, এবং হাঁটতেন। তার তত্ত্বসমূহের ব্যাপারে তিনি কনভিন্স হতেন বাইকিং করার সময়, এটা তিনি বলেছেন। এমনকি বিখ্যাত আপেক্ষিকতা তত্ত্বের ব্যাপারেই তিনি কনভিন্স হন সাইকেল চালাতে চালাতে। তিনি বলেছিলেন, আমি ওটা নিয়ে ভেবেছিলাম একবার সাইকেল চালানোর সময়।

ছবিঃ আইনস্টাইন বাইকিং করছেন।

বিজ্ঞানি পল ডিরাক মধ্যরাতে কোপেনহেগেনের রাস্তায় হাঁটতেন তার কুকুরকে সাথে নিয়ে। আর এই সময়ে তিনি কোয়ান্টাম ফিজিক্সের সমস্যাগুলি নিয়ে ভাবতেন।

বড় দার্শনিক সোরেন কীয়ের্কেগার্ড রাস্তায় হাঁটতেন। প্রায় দুই দশকের মতো তিনি নিয়মিত হেঁটেছেন চিন্তা করার জন্য। কীয়ের্কেগার্ড একবার বলেছিলেন, আমি হেঁটেই আমার সেরা চিন্তাগুলি পেয়েছি। একইকথা দার্শনিক নীৎসেও বলেন, সব সত্যিকার সেরা চিন্তা হাঁটার মাধ্যমেই কনভিন্স হয়।

আর একদিন হাঁটতে গিয়েই তো নীৎসে তুরিন শহরে দেখতে পান একটা লোক তার ঘোড়াকে বেদম প্রহার করছে। এটা দেখে নীৎসের এতই খারাপ লাগে যে তিনি দৌড়ে ঘোড়া ও লোকটির মাঝামাঝি চলে যান। তিনি এই শোকের ধাক্কায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। আর সুস্থ হন নি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরেরও ব্যায়াম সম্পর্কে খুবই পজেটিভ অবস্থান ছিল। তিনি সরাসরি ব্যায়াম করতেন কি না জানি না। তবে বাঙালীর আশা ও নৈরাশ্য প্রবন্ধে তিনি বাঙালী জাতির মুক্তি জন্য যে দুটি উপায়ের কথা বলেছেন এর একটি হলো ব্যায়াম।

যাহা হউক, আমাদের দেশের উন্নতির পক্ষে যে দুইটি বাধা (প্রথম দারিদ্র্য, দ্বিতীয় জলবায়ু  বদ্ধমূল হইয়া আছে, তাহা নষ্ট করিবার তেমনি দুইটি অমোঘ উপায় আছে– ব্যবসায় ও ব্যায়াম।  – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

এক্সারসাইজ যে ক্রিয়েটিভ থিংকিং, ফ্লুইড ইন্টিলিজেন্স বা ফ্রি ফ্লো অব থটস বাড়ায় এ নিয়ে সাইন্টিফিক প্রমাণ দিন দিন শক্তিশালীই হচ্ছে।

এস্থেটিক বডিবিল্ডিং বিষয়ে প্রাথমিক কথা

প্রথম কথাই হচ্ছে বডিবিল্ডিং কী। মেরিয়েম ওয়েবস্টার ডিকশনারিতে বডিবিল্ডিং কথাটির অর্থ লেখা আছে, খাবার এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে বডি নির্মান করা, বিশেষত প্রতিযোগিতামূলক খেলায় প্রদর্শনের জন্য।

অর্থাৎ, এখানে দুইটা অংশ আছে।

অংশ একঃ যেখানে একজন মানুষ তার খাবার নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্যায়াম করে তার ইচ্ছামত বডি তৈরি করবেন, যেরকম তার পছন্দ সেরকম। এই ধরণের বডি তৈরি করে তিনি কোন প্রতিযোগিতায় যাবেন না। বলা যাক এটি তার নিজের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য, ফিটনেস বাড়ানোর জন্য।

অংশ দুইঃ এই ধরণের বডি বিল্ডিং এ একজন ব্যক্তি বডি নির্মান করেন খাবার এবং এক্সারসাইজের মাধ্যমে, কিন্তু তিনি এটি করেন প্রতিযোগিতায় প্রদর্শনের জন্য ও জেতার জন্য। এটি একটি খেলা। যেমন ক্রিকেট একটি খেলা যেখানে পেশাদার খেলোয়াড়েরা পরিশ্রম করে নিজেদের তৈরি করেন প্রতিযোগিতায় জেতার জন্য।

আমি বডিবিল্ডিং এর ক্ষেত্রে অংশ এক এ ফোকাস করতে চাই। কারণ প্রতিযোগিতামূলক বডিবিল্ডিং এ আমার আগ্রহ নেই। আমার আগ্রহ এস্থেটিক বডি বিল্ডিং এ।

এস্থেটিক বডি বিল্ডিং এর প্রধান লক্ষ্য থাকে প্রতিসাম্যিক বা সিমেট্রিক্যাল একটি বডি নির্মান করা। প্রতিসাম্যিক বলতে বুঝায় যেখানে এক পাশ অন্য পাশের সমান।

প্রাণীজগতে প্রতিসাম্যকে দেখা হয় সৌন্দর্য হিসেবে। সেজন্য মানুষও প্রতিসাম্যকে সুন্দর মনে করে।

আপনার এক হাতের বাইসেপ যদি আরেক হাতের বাইসেপের চাইতে ছোট হয় তাহলে তা দেখতে ভালো দেখাবে না। দুই অংশ সমান বা প্রায় সমান হতে হবে।

ছবিঃ ফাইট ক্লাবে ব্র্যাড পিট

এস্থেটিক বডি বিল্ডিং এর ক্ষেত্রে আপনি অবশ্যই চাইবেন না খুব বেশি মাসল তৈরি করতে। আপনি সেটুকু মাসল তৈরি করতে চাইবেন যেটুকু হলে আপনাকে দেখতে ভালো দেখায়। বেশি মাসল মানেই দেখতে সুন্দর এমন অবশ্যই নয়। এই কথাটি খেয়াল রাখতে হবে।

বডি বিল্ডিং এর ক্ষেত্রে জেনেটিকস একটি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। আপনার জেনেটিক ভিত্তি যেমনই হোক না কেন অবশ্যই আপনি ভালো বডি তৈরি করতে পারবেন। কিন্তু আপনার বাইসেপের শেইপ কীরকম হবে, মাসল গেইন কী রকম হবে ইত্যাদির অনেক অংশই আপনার জিনের উপর নির্ভর করে। দুইজনের মাসলের আকৃতি একইরকম নাও হতে পারে। এছাড়াও কতটুকু মাসলে আপনাকে কেমন দেখাবে তা নির্ভর করে অনেকটা আপনার স্কেলেটাল আকার-আকৃতির উপরে।

ছবিঃ জ্যারেড লেটো

তাই ঠিক অন্যের মতো মাসল তৈরি করতে যাওয়া ঠিক পন্থা নয়। কারণ অন্য আরেকজনের মাসল আকৃতি ঐরকম হয়ত তার জেনেটিক কারণে, আপনার মাসল আকৃতি ভিন্ন আপনার জিনগত কারণে। হয়ত তার স্কেলেটাল গঠন আপনার স্কেলেটাল গঠনের চাইতে ভিন্ন।

আপনার যে অবস্থা আছে সেখান থেকেই উন্নত করার চেষ্টা করতে হবে। অন্যদের দেখে অনুপ্রেরণা পেতে পারেন। কিন্তু মিলিয়ে মিলিয়ে তুলনা করতে হলে তা আপনার হতাশা বাড়াতে পারে।

যেকোন কাজে সবাইকে খুশি করতে যাওয়া সবচাইতে ভুল পথ। রোমান দাস ও জ্ঞানী ব্যক্তি পাবলিয়াস সাইরাস অনেক আগেই লিখে গিয়েছিলেন, যারা সবাইকে খুশি করতে যায় তারা ব্যর্থতার পথেই হাঁটে।

আপনি আপনার বডি যখন তৈরি করবেন তখন যারা দেখবে তাদের সবাই এর প্রশংসা করবে না। কেউ বলবে আপনার বাইসেপ আরো বেশি হলে ভালো হতো, কেই বলবে আপনার পেট আরো বড় হলে ভালো হতো, কেউ বলবে আপনার সিক্স প্যাকে ভালো লাগছে না।

ছবিঃ ঋত্বিক রোশন

আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারকেও অনেকে বলতো, তোমার মতো বিদঘুটে বডি আমি কখনো চাইব না।

শোয়ার্জনেগার হেসে জবাব দিতেন, তা তুমি করতে কখনো পারবেও না।

অনেক সাধারণ মানুষ মনে করে কেউ জিমে যায় শোয়ার্জনেগার হতে। সে আশা করে কয়দিন পরে স্ট্রং ম্যানদের মতো বা প্রফেশনাল বডি বিল্ডারদের মতো ‘দানব’ দেখবে। কিন্তু তাদের এই ধারণা ভুল জানার জন্যে।

মাসল অলঙ্কারের মতো বিষয় নয় যে আপনি বাজার থেকে কিনে আনলেন। মাসল একটি জীবন্ত বাস্তবতা ও আপনার অংশ। যেটুকু মাসল আপনার থাক, তার জন্য পর্যাপ্ত খেতে হবে। বেশি মাসল হলে বেশি খাবার আপনার লাগবে, কারণ মাসল বেশি ক্যালরি খরচ করে।

সুতরাং, আপনি ততটুকু মাসলই চাইবেন যতটুকু আপনি মেইন্টেইন করতে পারেন।

ছবিঃ রবার্ট ডাউনি জুনিয়র

কারণ মেইন্টেইন করতে না পারলে সেই মাসল হারিয়ে যাবে। আর মেইন্টেইন করতে আপনার যদি খারাপ লাগে বা কষ্ট হয় তাহলে এতো মাসলের দরকার কি?

এস্থেটিক বডি বিল্ডিং এর কথা হলো, সেইরকম মাসল তৈরি করুন যাতে আপনাকে দেখতে ভালো লাগে, আপনি যেগুলি মেইন্টেইন করতে পারবেন ও যে মাসল আপনার ফিটনেস ও স্ট্রেংথ বাড়াবে।

এখানে দার্শনিক নাসিম তালেবের সূত্র শেয়ার করি, নো মাসল উইদাউট স্ট্রেংথ।

অর্থাৎ, শক্তি অর্জন ছাড়া মাসল অর্জন নয়। মাসলের সাথে সাথে স্ট্রেংথও যেন বাড়ে। এই কথাটি অভারল ফিটনেস বাড়াতে জোর দেয়।

মাইকেল ম্যাথিউজের বই ‘বিগার লিনার স্ট্রংগার’

মাইকেল ম্যাথিউজের বিগার লিনার স্ট্রংগার বইতে যা আছে, তা এই সাইটের অনেক লেখায় ভিন্ন ভিন্ন ভাবে এসেছে। মূলকথাটি হলো, মাসল বিল্ড করতে হলে এবং স্ট্রেংথ বাড়াতে হলে আপনাকে বেশি ওয়েট উত্তোলন করতে হবে। সময় হবে কম কিন্তু এক্সারসাইজ হবে তীব্র। দ্বিতীয় কথাটি হলো পর্যাপ্ত প্রোটিন জাতীয় খাদ্য খেতে হবে। এই হলো বডি বিল্ডিং এর মূলকথা, আর একটি কথা যোগ করা যায়, সাপ্লেমেন্ট ইন্ড্রাস্ট্রির যেসব কথা আপনি শুনে থাকেন বিভিন্ন সাপ্লেমেন্ট নিয়ে এগুলি ভুয়া।

আর ফ্যাট লস করতে হলে আপনার শরীর যে পরিমাণ ক্যালরি খরচ করে তার চাইতে কম ক্যালরি খেতে হবে। এরপরে করতে হবে এক্সারসাইজ।

আপনার বডির জেনেটিকস যে ধরণের হোক না কেন, আপনি লিন মাসল ম্যাস ডেভলাপ করতে পারবেন। মনে রাখবেন আপনি যে রকম দেখতে এর ৭০-৮০% কারণ হলো আপনার খাওয়া দাওয়া। একটা কথা আছে আমরা যা খাই, সেরকমই হই।

এই ফর্মূলায় এক্সারসাইজ করতে পারেন মাসল গ্রোথের জন্যঃ

 

১-২/৪-৬/৯-১২/৪৫-৬০/৫-৭/৮-১০

 

১। প্রতিদিন ১/২ মাসল গ্রুপ ট্রেইন করবেন। সহজ ভাষায়, বাইসেপ+চেস্ট বা শোল্ডার+ট্রাইসেপ এরকম করে বা একটি মাসলগ্রুপ। একদিনে সব মাসল গ্রুপ করবেন না।

 

২। এক্সারসাইজের রেপস হবে ৪ থেকে ৬, খুবই ভারী ওয়েট দিয়ে।

যখন ছয়টার বেশি রেপ মারতে পারবেন তখনই ওয়েট বাড়াবেন। প্রতি রেপ ২-১-২ নিয়মে হবে। অর্থাৎ, প্রথম অংশ ২ সেকন্ড, মাঝে ১ সেকন্ড বিরতি, এবং এরপরের অংশ ২ সেকন্ড।

৩। প্রতিটি মাসল গ্রুপের জন্য ৯ থেকে ১২ টি সেট এক্সারসাইজ করবেন। অর্থাৎ, চেস্ট হলে বেঞ্চ প্রেস ৩ সেট, আপার বেঞ্চ প্রেস ৩ সেট, ডাম্বেল প্রেস বা ফ্লাই ৩ সেট এরকম করে।

 

৪। এক্সারসাইজ হবে ৪৫ মিনিট থেকে ৬০ মিনিট।

 

৫। প্রতি মাসল গ্রুপ ৫/৭ দিনে একবার করে করবেন।

 

৬। ৮-১০ সপ্তাহ পরে এক সপ্তাহ রেস্ট নিবেন।

 

ওয়ার্ম আপ সেটঃ

ওয়ার্ম আপের জন্য যে হেভি ওয়েট দিয়ে এক্সারসাইজ করেন তার অর্ধেক ওয়েট দিয়ে করবেন ১২ রেপস। এরপর এক মিনিট রেস্ট নিবেন।

আবার একই ওয়েট দিয়ে ১০ রেপ করবেন। এক মিনিট রেস্ট।

পরের সেটে যে ওয়েট দিয়ে মূল এক্সারসাইজ করেন তার ৭০% ওয়েট দিয়ে ৪ রেপ মারবেন। এক মিনিট রেস্ট।

এর পরের সেটে যে ওয়েট দিয়ে এক্সারসাইজ করেন তার ৯০% ওয়েট দিয়ে মাত্র এক রেপ মারবেন। দুই তিন মিনিট রেস্ট নিবেন মূল এক্সারসাইজ শুরুর আগে।

 

মাসল গেইনের জন্য ম্যাথিউ এর সূত্রঃ লিফট হেভি, লিফট হার্ড, পর্যাপ্ত রেস্ট এবং বডিকে পর্যাপ্ত খাবার দিন।

 

নিউট্রিশন বিষয়ক তথ্য চেকঃ

এই অংশটি বইটিতে নেই কিন্তু এখানে আমি দিচ্ছি কারণ সাপ্লেমেন্ট ইত্যাদি নিয়ে অনেকে প্রশ্ন করেন। সাপ্লেমেন্টদের মধ্যে হোয়ে প্রোটিন আইজোলেট এবং ক্রিয়েটিন সবচাইতে বেশি সেইফ, এবং কার্যকরী রিসার্চ মতে। বাকি অনেক অনেক সাপ্লেমেন্ট আছে যেগুলি কাজ করে না, কিন্তু এদের বিজ্ঞাপন হয় প্রচুর। আর যেহেতু অনেক টাকার ইন্ড্রাস্ট্রি তাই রিসার্চও হয়ে থাকে বায়াসড। নিউট্রিশনের ফিলড এমনিতেই নানা স্ববিরোধী কথায় পূর্ন।

চিনি বিষয়ক একটি উদাহরণ দিলে বুঝা যেতে পারে নিউট্রিশন ইন্ড্রাস্ট্রির বিরোধপূর্ন অবস্থা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডবিউ এইচও ২০১৪ –তে  রিপোর্ট দিয়েছিল বাইরের চিনি দ্বারা মোট নেয়া এনার্জির ১০ ভাগ কেউ নিতে পারেন। সাধারণ এডাল্ট লোকের জন্য হয় তা ২৫ গ্রাম বা ৬ চামচ। ৫ ভাগ অর্থাৎ ৩ চামচ নিলে ভালো, বলে জানিয়েছে ডব্লিউ এইচ ও।

এই কারণে আমেরিকান চিনি সংস্থা ইউ এস কংগ্রেসের ল মেকারদের কাছে দাবী জানিয়ে চাপ সৃষ্টি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় ডোনেশন বন্ধ করে দেবার জন্য।

সাপ্লেমেন্ট বা নিউট্রিশন বিষয়ক ফ্যাক্ট চেক করতে হলে ব্যবহার করতে পারেন এক্সামিন ডট কম ওয়েবসাইট। এখানে সার্চ দিলেই যে জিনিসটি সম্পর্কে আপনি তথ্য চাচ্ছেন সে সম্পর্কে লেখা পাবেন ও সাইন্টিফিক রিসার্চের সূত্র পাবেন।

 

কিছু খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ

নিউট্রিশন বা পুষ্ঠিবিদ্যার বেসিক সম্পর্কে জানতে আমি এডেক্সে থাকা Nutrition and Health: Macronutrients and Overnutrition কোর্সটি করেছিলাম। এটি Wageningen বিশ্ববিদ্যালয়ের NUTRx কোর্স সিরিজের অন্তর্ভূক্ত। কোর্সটি ভালো লেগেছিল।

সেখানে এক জায়গায় কিছু খাবারের প্রোটিন পরিমাণ বিষয়ক নিচের ছবিটি ছিলঃ

এসব মূল খাবারের প্রোটিন পরিমাণ কখনৈ ২৫-৩০% এর বেশি হয় না।

বডি বিল্ডারেরা সাপ্লেমেন্ট প্রোটিন পাউডার ব্যবহার করেন, এতে প্রোটিনের পরিমাণ থাকে ৯০% প্রায়। কিন্তু এগুলি পানিতে, দুধে বা ফলের রসে মিশিয়ে খেতে হয়। আর পানিতে মেশালে প্রোটিন কন্টেন্ট কমে প্রায় ২০% এ নেমে আসে, খাওয়ার উপযুক্ত হয়।

মুরগীর মাংস, মাছ, ডিম, এবং ডেইরি প্রডাক্ট হচ্ছে প্রোটিনের সবচাইতে ভালো উৎস। যারা ভেজিটেরিয়ান তারা বিভিন্ন ধরণের ডাল, বাদাম, সয়া ইত্যাদি থেকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন সহজেই পেতে পারেন।

ছোট বাচ্চাদেরও ভেজিটেরিয়ান ডায়েটের মাধ্যমে প্রোটিন চাহিদা মেটানো সম্ভব, কিন্তু এক্ষেত্রে বাবা মায়ের খাদ্যের প্রোটিন সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা থাকতে হবে। যদি না থাকে তাহলে বাচ্চাটি প্রোটিনহীনতায় ভুগবে।

খাদ্যের পুষ্ঠিমান তথা প্রোটিন উপাদানের বিস্তারিত দেখতে এই ওয়েবসাইট –  ইউনাইটেড স্টেইটস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার দেখা যেতে পারে।

“ফিটনেসে বেশী লোককে আগ্রহী করে তোলাই মূল বিষয়”

আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারের জন্মদিনে তার একটি চিন্তা শেয়ার করার জন্যই এই পোস্ট। ফিটনেসে আগ্রহীদের জন্য সবচাইতে বড় একটি কম্যুনিটি রেডিটের ফিটনেস সাব রেডিট। সেখানে পাঁচ বছর আগে একজন একটি কার্ডিও এক্সারসাইজ বিষয়ক একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। ঐ পোস্টে আরো অনেকে এর বিরোধীতা করেন। তখন হঠাৎ আবির্ভূত হন আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার। তার অফিশিয়াল আইডি থেকেই তিনি নিম্নোক্ত মন্তব্যটি শেয়ার করেন, যা ফিটনেসে আগ্রহীদের জন্য পড়া দরকারী।

শোয়ার্জনেগার লিখেন,

এটি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

সবাই শান্ত হোন, এবং ফালতু জিনিস নিয়ে তর্ক করা বন্ধ করুন। ফিটনেসে বেশী সংখ্যক মানুষকে আগ্রহী করে তোলাটাই মূল বিষয়। আমি কখনো বুঝতে পারি নি কেন লোকেরা ফিটনেসে কে ঠিক এবং কে ভুল তা নিয়ে লাগাতার বিতর্ক করে যায়। কারণ সত্যিকার অর্থে, অনেক “ঠিক” উত্তর রয়েছে, বিশেষত যারা শুরু করেছে কেবল তাদের জন্য।

আপনারা কি মনে করেন সার্জিও অলিভা এবং আমি একইরকম করেছি? না। আসলে আপনারা গোল্ড জিমে গেলে দেখতে পারতেন ৫ সেরা বিল্ডার ৫ রকম ভিন্ন রকম রুটিন অনুসরন করছে। এবং আমরা কখনো এ নিয়ে তর্ক করি নি।

আমার জন্য একটি কাজ করুন। ফিটনেস কম্যুনিটিতে আপনার ক্ষুদ্র গণ্ডিকে রক্ষা করার চাইতে পুরো ফিটনেস কম্যুনিটিকে বাড়ানোর চেষ্টা করুন।

—————–

এখানে শোয়ার্জনেগার যে কথাটি বলেছেন তা খুবই স্টোয়িক দার্শনিকদের মতো। বডি বিল্ডিং এর অর্থ হলো শরীরচর্চা ও খাবারের মাধ্যমে নিজের শরীরকে নির্মাণ করা। আর বডি বিল্ডিং স্পোর্ট বা খেলাটি ভিন্ন বিষয়। সেখানে বডি নির্মান করে প্রতিযোগিতা করা হয়।

এস্থেটিক বডি বিল্ডিং প্রতিযোগিতার জন্য নয়, নিজের চাহিদা অনুসারে। বডির জেনেটিক এবিলিটিকে আমলে নিয়ে একটা এস্থেটিক বডি নির্মান করা।

বডি বিল্ডিং এর বেসিক বা মূল ব্যায়ামগুলি সিম্পল। কিছু কম্পাউন্ড এক্সারসাইজ। যেমন চেস্টের জন্য বেঞ্চ প্রেস, ব্যাকের জন্য পুল আপ, ডেডলিফট, লেগের জন্য স্কোয়াট, শোল্ডারের জন্য ওভারহেড প্রেস ইত্যাদি। এগুলি সব বডি বিল্ডারই করে থাকেন।

এবং এসব মূল কম্পাউন্ড এক্সারসাইজই বেশীরভাগ কাজে লাগে। কয়েকটি মাসল এতে ব্যবহৃত হয় একসাথে।

বিভিন্ন বিজ্ঞান ভিত্তিক রিসার্চের মাধ্যমে নতুন অনেক এক্সারসাইজ পন্থা বের হয়েছে, হচ্ছে। খাবার বিষয়কও নানা নতুন তথ্যও আবিষ্কৃত হচ্ছে। এগুলির বিষয়ে খোঁজ রাখা এক জিনিস, আর তা নিয়ে বিতর্ক করা আরেক জিনিস।

বিতর্কের চাইতে ফোকাস হওয়া উচিত মূল এক্সারসাইজ ও মূল খাদ্যের নিয়মকে মেনে চলা। ফিটনেস কম্যুনিটিকে বড় করা, ফিটনেসে লোকদের আগ্রহী করে তোলা।